একটা আধখাওয়া আপেল যদি কোথাও পড়ে থাকতে দেখেন তাহলে নিশ্চয়ই দ্বিতীয়বার ফিরেও তাকাবেন না সেদিকে। অথচ এই আধখাওয়া আপেলের লোগোওয়ালা একটা গ্যাজেটের জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করে দেয়ার নজির পর্যন্ত আছে!
হ্যাঁ, বলছি বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্ট অ্যাপলের কথাই। আজ আপনাদের শোনাব অ্যাপলের লোগোর গল্প।
আপেলটা আধখাওয়া কেন?
এই প্রশ্নটা নিশ্চয়ই আপনার মাথায়ও এসেছে অনেকবার। এর পেছনে বেশ কিছু মজাদার থিউরি আছে। সবচেয়ে জনপ্রিয় থিউরিটি হলো, এর মাধ্যমে আধুনিক কম্পিউটারের অন্যতম পথিকৃৎ অ্যালান টিউরিং-কে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে। অ্যালান টিউরিং ছিলেন একজন ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তার তৈরি কোডব্রেকিং মেশিন ‘এনিগমা’ যুদ্ধ জয়ে মিত্রবাহিনীকে বেশ সাহায্য করেছিল। তবে ব্যক্তি জীবনে টিউরিং ছিলেন নিঃসঙ্গ এবং ডিপ্রেসড৷ মাত্র ৪১ বছর বয়সে তিনি আত্মহনন করেন। মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সায়নাইড মেশানো আপেল। তাতে এক কামড় দিতেই জীবনাবসান হয় তার। দেহের পাশে পড়ে ছিল আধখাওয়া একটি আপেল। ঠিক অ্যাপলের লোগোটার মতোই!

আরেকটি থিউরি অনুযায়ী অ্যাপলের লোগোর মাধ্যমে নিউটনকে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে। নিউটন আর আপেলের সম্পর্ক তো সবাই জানে।
এসব থিউরি আসলে কতটা সত্য?
এ ব্যাপারে এই ঐতিহাসিক লোগোর ডিজাইনার রব জ্যানোফ কী বলেন?
২০০৯ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রব জ্যানোফ জানান, আধখাওয়া আপেলের পেছনের কারণ নিতান্তই সাধারণ। বাইট বা কামড়ের সিম্বলটি তিনি দিয়েছিলেন যেন আপেল সাদৃশ্য অন্য ফল থেকে একে আলাদা করা যায়। যেমন চেরি। চেরি কেউ এভাবে কামড়ে খায় না। তারমানে এটা আপেলই!
তবে ১৯৭৭ সালে এই লোগো ডিজাইনের পর পরই রব জ্যানোফ তার এক কলিগের কথায় আবিষ্কার করেন, এই ‘বাইট’ দিয়ে কম্পিউটার সাইন্সের ভিত্তি ‘বাইট’ও বোঝায়।
সত্যি বলতে অ্যাপলের এই লোগোটা এতোই শক্তিশালী যে অনেক কিছুর সাথেই একে রিলেট করা সম্ভব।
মজার ব্যাপার হলো, অ্যাপলের প্রাণপুরুষ স্টিভ জবস কখনই এর লোগোর পেছনের গল্পগুলো নিয়ে মুখ খোলেননি। নীরবে উপভোগ করেছেন গল্পগুলো। ব্র্যান্ডিং-গুরু স্টিভ জবস জানতেন, ব্র্যান্ডের জন্য একটা ”গল্প” কতো গুরুত্বপূর্ণ!
শেষ কথা
লেখাটা শেষ করব আইকনিক এই লোগোর পেছনের মানুষটাকে দিয়ে।

এই ছবিতে যাকে দেখতে পাচ্ছেন তিনিই রব জ্যানোফ। একজন মার্কিন গ্রাফিক আর্টিস্ট। আজ থেকে ৪৪ বছর আগে তিনি অ্যাপলের লোগো ডিজাইন করেন।
এই ফাঁকে আপনাদের জানিয়ে রাখি, আপনিও কিন্তু চাইলে রব জ্যানোফকে দিয়ে আপনার লোগো ডিজাইন করাতে পারেন তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এজন্য আপনাকে গুনতে হবে মাত্র ১০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ১২ লক্ষ টাকা! তবে এতো টাকার বিনিময়েও তিনি স্বয়ং আপনার লোগো করবেন তা কিন্তু না। তার তত্ত্বাবধানে তার টিম কাজটি করবে।
তবে আপনার যদি চমৎকার একটা লোগো প্রয়োজন হয় এবং আপনার ৮ লাখ টাকা বাজেট না থাকে তাহলে আপনার জন্য আছে নন্দন! আমরাও এমন সব লোগো ডিজাইন করে যা গল্প বলে!
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন
Nondon.co/logo


