আমরা প্রতিদিন অসংখ্য ব্র্যান্ডের লোগো দেখি।
কিন্তু কখনও কি ভেবেছেন—এই চেনা চেনা চিহ্নগুলোর পেছনে কী গল্প লুকিয়ে আছে?
একটি শক্তিশালী লোগো শুধু দেখতেই সুন্দর হয় তা না, বরং লুকিয়ে থাকা একটি গল্পের প্রথম লাইন।
এই লেখায় আমরা জানবো বিশ্বের ৫টি এবং নন্দনের ডিজাইন করা ৫টি আইকনিক লোগোর পেছনের অজানা কিংবা বিস্ময়কর তথ্য, যেগুলো শুধু ব্র্যান্ডিং ইতিহাসই নয়—ভিজ্যুয়াল কমিউনিকেশনের উৎকর্ষতাকেও তুলে ধরে।
১. Google – রঙে ছেলেমানুষি

Google-এর লোগো চারটি প্রাইমারি কালার (লাল, নীল, হলুদ) দিয়ে শুরু হয় এবং মাঝে সবুজ—যেটা প্রাইমারি নয়। এটা ইঙ্গিত করে—Google নিয়ম ভেঙেও কিছু করে।
লোগোটির ফন্ট ও স্পেসিং দীর্ঘ সময় ধরে ডেভলপ করা হয়েছে, যাতে এটি playful অথচ সিরিয়াস দেখায়।
২. Nike – সেই বিখ্যাত ‘Swoosh’

Nike-এর এই লোগোটি তৈরি করেন গ্রাফিক ডিজাইন ছাত্রী ক্যারোলিন ডেভিডসন মাত্র ৩৫ ডলারের বিনিময়ে।
‘Swoosh’ প্রতীকটি গ্রিক দেবী Nike-এর ডানাকে রিপ্রেজেন্ট করে। এটি গতি, শক্তি ও গতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে। আজ এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি।
পরে ক্যারোলিরকে Nike একটি হীরার আংটি এবং শেয়ারও উপহার দেয়।
৩. Amazon – A থেকে Z পর্যন্ত সবকিছু

Amazon-এর লোগোর নিচের কমলা অ্যারোটি দেখে মনে হতে পারে এটি একটি হাসির সিম্বল। তবে এটি মূলত এটি “A” থেকে “Z” পর্যন্ত একটি তীরচিহ্ন যা বোঝায়, তারা সবকিছু বিক্রি করে।
তবে একই সাথে অ্যারোটি কাস্টমার সন্তুষ্টির প্রতীক হিসেবেও কাজ করে। এটি বুদ্ধিদীপ্ত ডিজাইনের এক চমকপ্রদ উদাহরণ।
—
৪. FedEx – লুকানো তীরচিহ্ন
FedEx-এর লোগো প্রথম দেখায় সাধারণ মনে হতে পারে।
কিন্তু “E” ও “x”-এর মাঝে খেয়াল করুন—একটি নেগেটিভ স্পেস অ্যারো আছে।
এই তীর গতির প্রতীক এবং তা বোঝায় দ্রুততা, নির্ভরযোগ্যতা। অনেকেই এই লুকানো চিহ্ন প্রথম দেখায় খেয়ালই করেন না।
৫. Toyota – শুধু একটি গোলাকৃতি শেপ নয়

Toyota-এর লোগোটি আসলে তিনটি ওভাল দিয়ে গঠিত, যা পুরো নামটাকেই প্রকাশ করে।
এটি জাপানি ক্যালিগ্রাফির অনুপ্রেরণায় তৈরি এবং বিশ্বের অন্যতম মিনিমাল অথচ অর্থবহ লোগো।
এবার আমরা নন্দন-এর ডিজাইন করা কিছু বাংলাদেশি কোম্পানির লোগোর গল্প জানব
৬. পাখি না বাসা?!

টিম্বারনেস্ট একটি ক্রাফট শপ, যারা কাঠ/বোর্ড এবং লেজার এনগ্রেভিং এর মাধ্যমে শোপিস, নেমপ্লেট, ফ্রেম ইত্যাদি তৈরি করে।
আইকনটিতে একই সাথে T অক্ষর, একটি উডপেকার ও একটি বাসা (নেস্ট) ইনকর্পোরেট করা হয়েছে। যা ক্লেভার লোগোর একটি অনন্য উদাহরণ
৭. জীবন থেকে নেয়া লোগো!
জীবন থেকে নেয়া লোগো!
এই লোগোর কনসেপ্টটা নেয়া হয়েছে একটি ছবি থেকে যেখানে দেখা যাচ্ছে গ্রামের কৃষকরা মাথার ঝুড়িতে খাঁটি পণ্য নিয়ে বাজারে যাচ্ছে। সেই কনসেপ্টটাই গোল্ডেন রেশিওর মাধ্যমে চন্দ্রবিন্দুতে ইনকর্পোরেট করা হয়েছে।

৮. গোল্ডেন রেশিওর জাদু
ইনফোটেইনমেন্ট ক্যাটাগরিতে দেশের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল ভয়েস অফ ঢাকারলোগো।
মিনিমাল আইকনটি আমরা ক্রিয়েট করা হয়েছে গোল্ডেন রেশিওতে। V এবং D লেটারের সমন্বয়ে আইকনটি ডিজাইন করা হয়েছে।

৯. অ্যারাবিক S!
শায়খ আহমাদুল্লাহ প্রতিষ্ঠিত আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান “আস-সুন্নাহ স্কিল ডেভলপমেন্ট ইন্সটিটিউট” এর জন্য করা লোগো।
আইকনের ক্ষেত্রে ‘সুন্নাহ’র ইনিশিয়াল “S” এর মধ্যে একটি গ্রোথ সাইন ইনকরপোরেট করা হয়েছে স্কিল ডেভলপমেন্ট কনসেপ্ট বোঝানোর জন্য। সাথে রয়েছে একটু অ্যারাবিক টাচ।

১০. বুদ্ধিদীপ্ত লোগো

এই লোগোটিও বুদ্ধিদীপ্ত লোগোর একটু চমৎকার উদাহরণ।
এখানে কৃষিজ শব্দের মধ্যে একটি লাঙল ইনকরপোরেট করা হয়েছে। যা এক নজরেই অডিয়েন্সকে একটা স্পষ্ট মেসেজ দেয়।
এতক্ষণ আমরা দেশ বিদেশের ১০ টি লোগোর হিডেন মিনিং এবং তার গল্প জানলাম। এবার আপনার মাথা খাটানোর পালা। এখানে নন্দনের করা আরও কিছু লোগো দেয়া হলো যার প্রতিটিতেই আছে চমকপ্রদ সব গল্প। আপনার কাজ সেগুলো খুঁজে বের করা!
আর আপনার প্রতিষ্ঠানের লোগো বা ব্র্যান্ডিং এর দরকার হলে নন্দন তো আছেই।



